1. rajoirnews@gmail.com : ABDUL AZIZ : ABDUL AZIZ
  2. gopalganjbarta@gmail.com : ashik Rahman : ashik Rahman
  3. news.coxsbazarvoice@gmail.com : ABDUL AZIZ : ABDUL AZIZ
  4. jmitsolutionbd@gmail.com : jmmasud :
১ম মৃত্যু বার্ষিকী: মহান মুক্তিযুদ্ধের এক মহান সংগঠক নজরুল ইসলাম চৌধুরী - Coxsbazar Voice
বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১, ০৫:৫৫ পূর্বাহ্ন
দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।
শিরোনাম :

১ম মৃত্যু বার্ষিকী: মহান মুক্তিযুদ্ধের এক মহান সংগঠক নজরুল ইসলাম চৌধুরী

  • প্রকাশিত : বুধবার, ৭ জুলাই, ২০২১, ৮.৫৭ পিএম
  • ১৫৭ জন সংবাদটি পড়েছেন।
প্রয়াত নজুরুল ইসলাম,ফাইল ছবি

কামরুল হাসান

জাতীর পিতার হাতে রাজনীতির হাতেখড়ি

উপকূলীল জনপদে বৃষ্টিঝরা সুবেসাদিকের এক সৃষ্টিশীল প্রত্যুষে বঙ্গোপসাগরের উত্তাল কলতান আর ভোরের আযানের ধ্বনি সাথে নিয়ে কক্সবাজার জেলার চকরিরার পেকুয়া উপজেলার মগনামাতে ১৯৩৯ এ সম্ভান্ত্র মুসলিম পরিবারে পিতা মরহুম মৌলানা ফজলুল হক আর জমিদার কন্যা রত্নগর্ভা মাতা মরহুমা নরুনাহার বেগমের ঘর আলোকিত করে বাঙালির মহান মুক্তিযুদ্ধের তৎকালিন মহকুমা সংগ্রাম কমিটির কনিষ্টতম অথচ প্রভাবশালী সদস্য ষাট এর দশকের তোখোড় ছাত্রনেতা খ্যাত ক্ষণজন্মা বর্ষিয়ান এক রাজনৈতিক নজরুল ইসলাম চৌধুরীর জন্ম।

উর্ভর পলি বিধৌত কাদা মাঠির ঘ্রাণ শুকে শুকে পূর্তগীজ আর মগ জলদস্যুদের অত্যাচারের ইতিহাসকে পেছনে রেখে জোতদার সামন্তবাদের প্রভূত্যের বিরোদ্ধে এক দ্রোহ নিয়ে উচা উচা পাহাড় আর বঙ্গোপসাগরের বিশাল ঢেউ দেখতে দেখতে যে শিশুটির জন্মহয় কালের প্রবাহে তিনি কক্সবাজার অঞ্চলের এক অবিসংবাদিত জননেতায় পরিনত হন।তিনি শৈশব না পেরোতেই উন্নত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও উন্নত জীবনের জন্যে মাতা পিতা ও অপর তিন ভ্রাতা যথাক্রমে বাংলাদেশ বিমানের প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার মরহুম হুমায়ূন কবির,অ্যাডভোকেট মমতাজুল ইসলাম ও ছোট ভাই বায়তুশ শরফের মহাপরিচালক বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ এম এম সিরাজুল ইসলামের এক সাথে করে কক্সবাজার শহরের টেকপাড়ায় প্রধান সড়ক সংলগ্ন নিজস্ব বাসস্থান ‘আল নাহার’ এ এসে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।
ভর্তি হন টেকপাড়া প্রথমিক বিদ্যালয়,পি টি আই সংলগ্ন পরীক্ষণ বিদ্যালয়,কক্সবাজার সরকারী উচ্চবিদ্যালয় ও কক্সবাজার সরকারী কলেজে লেখাপড়া করেন।

বঙ্গবন্ধুর সাথে পরিচয় ও রাজনীতির প্রথম পাঠ: ১৯৬৩ সনের কথা,সেদিন এক বিকেলে ক্রীড়াপ্রেমী নজরুল ইসলাম চৌধুরী সহ তাঁরা ছিলেন ১৭ জন ১টি ফুটবল নিয়ে গিয়েছিলের কক্সবাজার পর্যটন কর্পোরেশনের কটেজ তপতী তন্ময় এর সামনে সমুদ্র সৈকতের বালুকা বেলায় ফুটবল খেলতে। হঠাৎ এক সম্মোহনী শক্তির অধিকারী দীর্ঘদেহী সুদর্শন সুঠাম এক ব্যাক্তি কাছে কটেজ থেকে বের তাঁদের কাছে আসলেন,মনে হলো পর্যটক।এসে নজরুল ভাই এর কাছ থেকে ফুটবলটি চেয়ে নিয়ে পা দিয়ে এমন জোরে বলটিতে কিক নিলেন বলটি বঙ্গোপসাগরের লোনাজলে গিয়ে পড়লো,আর ঢেউ বলটি কে ভাসিয়ে নিয়ে গেলো।সঙ্গত কারনে নজরুল ভাইদের মন খারাপ হয়ে গেলো। তখন ওই পর্যটক মনে করা ব্যাক্তিটি নজরুল ভাইদের ২নং কটেজে নিয়ে গিয়ে চা বিস্কুট তে আপ্যায়িত করতে করতে তাঁর সাথে থাকা একজন কে বললেন-‘শামশু ওদের প্রত্যেকের জন্যে একটি করে বল নিয়ে আস।’ শামশু জানতেন না কক্সবাজারে কোথায় ফুটবল পাওয়া যায়। শামশু ওই কতা প্রকাশ করলে ওই স্নেহ প্রবন পর্যটকটি বললেন-‘বাজারঘাটা মসজিদের পাশে ফয়েজ আহামদ চৌধুরীর দোকানে গিয়ে আমার কথা বলো।’ যেই কথা সেই কাজ নজরুল ভাইদের প্রত্যেকের জন্যে ১টি করে মোট ১৭টি বল নিয়ে দোকানের মালিক ফয়েজ আহামদ চৌধুরী সমেত শামশু ফিরে এলেন। উল্লেখ্য এই ফয়েজ আহমদ’ই পরবর্তীতে পৌর আওয়ামিলীগ এর সভাপতি হন। প্রত্যেকে একটি করে ফুটবল পেয়ে নজরুল ভাইরা তো মহা খুশি। ওই পর্যটক আমাদের হাতে বল তোলে দিতে দিতে সকলের নাম জেনে নিলেন এবং তাঁর পরিচয় দিলেন। তিনি আর কেউ নন এদেশের নির্যাতিত নিপীড়িত মানুষের বলিষ্ট বজ্রকণ্ঠধ্বনি,বাঙালির হাজার বছরের আরাধ্য পুরুষ হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি এই কটেজে বসেই কয়েকদিন বাঙালি,বাঙালি জাতিস্বত্বা,পাকিস্থান প্রতিষ্ঠার পেক্ষাপট,পাকিস্থানীদের নীপিড়ন,৫২ এর ভাষা আন্দোলন সহ বাঙালির তৎসময়ের জাতীয়তাবাদী রাজনীতির বিষয় নিয়ে নজরুল ভাই দের রাজনীতির প্রথম পাঠ দান করেন।

তার ঠিক ৩ বছর পর সাতকানিয়া রেজিষ্ট্রি অফিস সংলগ্ন মাঠে আওয়ামিলীগ আয়োজিত এক জনসভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ভাষন দিতে আসেন সেখানে কক্সবাজার থেকে তরুণ নজরুল ইসলাম চৌধুরী বঙ্গবন্ধুর সাথে দেখা করতে গেলেন। সালাম দিতেই বঙ্গবন্ধু বলে উঠলেন-‘তুই কক্সবাজারের নজরুল না?’ আর বঙ্গবন্ধুর সাথে থাকা চট্টগ্রামের এম এ আজিজ ও আবদুল্লাহ আল হারুন প্রভৃতি নেতার সাথে নজরুল ভাই এর পরিচয় করিয়ে দিয়ে এম এ আজিজ সাহেব কে বললেন-‘এই নজরুল কে তোমরা কাজে পাবে।’ উল্লেখ্য সেখানেই পরবর্তী কালের কক্সবাজার জেলা আওয়ামিলীগ এর সভাপতি কক্সবাজারের মুক্তিযুদ্ধের আরেক মহান সংগঠক এ কে এম মোজাম্মেল হক সাহেরর সাথে নজরুল ভাই এর প্রথম পরিচয়। পরলোক গমনের আগ পয্যন্ত নজরুল ভাই কে বলতে শুনেছি-”সাতকানিয়াতে বঙ্গবন্ধুর-‘ তুই কক্সবাজারের নজরুল না’ ডাকটি এখনো আমার কানে লাগে।” এই কথাটি বলতে।

নজরুল ইসলাম চৌধুরী সাতকানিয়া থেকে ফিরেই কক্সবাজারের ছাত্রলীগ গঠনে তাঁর প্রিয় বন্ধু কামাল হোসেন চৌধুরীকে সথে নিয়ে কক্সবাজার জেলা(মহকুমা) ছাত্রলীগ গঠনের উদ্দেশ্যে বাড়ী থেকে বেরিয়ে পড়েন।এক বার বাড়ী থেকে বের হলে পড়লে তিনি ৭/৮দিন পয্যন্ত বাড়ী ফিরতে না।চষে বেড়িয়েছেন পুরো জেলা।

তৎকালিন সময়ে হাতেগুনা ১০/১৫ লোক আওয়ামী লীগ করতেন।তাদের মধ্যে ছিলেন-আফসার কামাল চৌধুরী, অ্যাডভোকেট নুর আহমদ,অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম,এ কে এম মোজাম্মেল হক ও তাঁর বর ভাই জালাল আহমদ,প্রেসক্লাবের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সাংবাদিক নুরুল ইসলাম,অ্যাডভোকেট ফজলুল হক,ডা:আবুল হোসেন,ফয়েজ আহমদ চৌধুরী,ব্যাবসায়ী সিরজ,বাহার ছরার মৌলভী সুলতান আহমদ,নজরুল হুদ(পঁচামিয়া) প্রমুখ।

৬৬ সালের মধ্যভাগে কক্সবাজার আওয়ামিলীগ কে সংগঠিত করার জন্যে চট্রগ্রাম থেকে এম এ আজিজ কক্সবাজার আসেন।তিনি আওয়ামিলীগ নেতাদের সাথে বৈঠকে সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের কাঠামো তৈরী ও গণমানুষের কাছে সংগঠন কে পৌঁছে দেয়ার নির্দেশ দেন।সেই মোতাবেক নজরুল ভাই কামাল হোসেন চৌধুরী,অ্যাডভোকেট হাবিব ভাই,রাজা মিয়া চৌধুরী উদ্দ্যোগ নিয়ে প্রথমে ঈদগাঁও, পরবর্তীতে পি এম খালী এবং খুরুষ্কুল আওয়ামিলীগ এর ইউনিয়ন কমিটি গঠন করেন।পুরো জেলায় নেতা কর্মীদের সহযোগীতায় এভাবে তিনি মূল সংগঠনের কাজ ও চালাতে থাকেন।

১৯৬৮ তে মহকুমা(বর্তমান জেলা) ছাত্রলীগের সম্মেলন হওয়ার কথা ছিলো।সেই সম্মেলনে স্বাভাবিক ভাবেই নজরুল ভাই সভাপতি হওয়ার কথা।কিন্তু তার পরিবর্তে বঙ্গবন্ধু এম এ আজিজ সাহেব কে কক্সবাজার পঠালেন মহকুমা (জেলা) আওয়ামিলীগ এর সম্মেলন ও কমিটি গঠনের জন্যে।এম এ আজিজ কক্সবাজার আসলে পাবলিক লাইব্রেরী হলে আওয়ামীলীগ নেতাদের নিয়ে সম্মেলনে মিলিত হন।সেখানে নজরুল ভাই এর সাথে ছাত্রনেতারা ও বসেন। এক পর্যায়ে এম এ আজিজ সাহেব নজরুল ভাই কে আওয়ামিলীগ এর একটি ফর্ম ধরিয়ে দিয়ে বললেন-‘বঙ্গবন্ধুর নির্দেশ নজরুল তুমি ছাত্রলীগ নয়, এখন তুমি আওয়ামিলীগ করবে।’ ওই দিনই মহকুমা আওয়ামিলীগ এর পূর্ণঙ্গ কমিটি গঠন করেন এ এ আজিজ।ওই কমিটিতে সভাপতি, আফছার কামাল চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুর আহমদ,কোষাধ্যক্ষ এ কে এম মোজাম্মেল হক আর গুরুত্বপূর্ণ পদ প্রচার সম্পাদক করা হয় নজরুল ইসলাম চৌধুরী কে। এটি একজন ছাত্রনেতার জন্যে পাওয়া বিরাট এক দায়িত্ব ছিলো। কক্সবাজার কলেজ সংসদের নির্বাচিত জি এস থেকে সরাসরি মহকুমা তথা জেলা আওয়ামীলীগের প্রচার সম্পাদক নির্বাচিত হওয়া চারটি খানি কথা নয়,তাও আবার বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে।

সেই থেকেই শুরু হয় তাঁর লাগাতার আন্দোলন সংগ্রামের ইতিহাস। তার যেমন ছিলো সাংগঠনিক দক্ষতা তেমনি তিনি ছিলেন জাতির জনকের মতো সুবক্তা।তাঁর মহান নেতার মতো তাঁর ও ছিলো বজ্রকন্ঠ।আন্দোল সংগ্রামের মতো ৭০এর নির্বচনে ও তাঁর ভুমিকা ছিলো সর্বজন বিধিত।

বন্ধু কামাল হোসেন চৌধুরী সহ ২৬ মার্চ রাতে তিনি ছিলেন লাল দিঘির পাড়ে ইউনাইটেড হোটেলে। রাত ১২টার দিকে চট্টগ্রাম থেকে ওই হোটেলের টি এন্ড টি ফোনে লজরুল ভাই এর কাছে জামাল উদ্দীন সাহেবের একটি ফোন আসে।অপর প্রান্ত থেকে জামাল উদ্দীন সাহেব বলেন-‘বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ডাক দিয়েছেন।মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে।’

১১মার্চ কক্সবাজার মহকুমা আওয়ামী লীগ এর বৈঠকে বসে। ওখানে সংগ্রাম কমিটি গঠিত হয়।আহবায়ক আফচার কামাল চৌধুরী, সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট নুর আহমদ কোষাধ্যক্ষ অ্যাডভোকেট মওদুদ আহমদ,সদস্য- ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরী, অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম, এ,কে,এম, মোজাম্মেল হক,ন্যাপের সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, কমিউনিষ্ট পাটির সুরেশ চন্দ্র সেন এবং নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

নজরুল ভাই এর উপর অতিরিক্ত দায়িত্ব পড়ে ছাত্র যুবকদের সাথে মূল নেতাদের সমন্বয় করা।এখানে যেহেতু স্বপ্ল পরিসর তাই অনেক কথা বাদ দিয়ে যুদ্ধ ক‍ালিন সময়ের মেজর জিয়া ও মেজর মীর শওকতের সাথে নজরুল ইসলাম চৌধুরীর কিছু বিষয় উল্লেখ করছি-২৯ মার্চ মেজর জিয়া কক্সবাজার আসেন।তিনি প্রায় ২২ঘন্টা কক্সবাজার ছিলেন। তৎমধ্যে প্রায় ১৬ ঘন্টাই নজরুল ইসলাম চৌধুরীর সাথে জেলা পরিষদ ডাক বাংলোতে ছিলেন।মেজর জিয়ার সাথে আসা অফিসার ও জোয়ানদের মার্চ মাসের বেতন ভাতা কাপড় এবং চলে যাওয়ার সময় কিছু রসদ পত্র ইত্যাদি এ কে এম মোজাম্মেল হক,নজরুল ইসলাম চৌধুরী সহ সংগ্রাম কমিটি ব্যাবস্থা করেছিলেন। মেজর জিয়া ও সৈনিকদের বেতন ভাতা খরাচাদির মাষ্টার রুলে যারা সই করেছিলেন আহবায়ক আবছার কামাল চৌধুরী, অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম, অধ্যক্ষ ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরী, কোষাধ্যক্ষ অ্যাডভোকেট মওদুদ আহমদ ও নজরুল ইসলাম চৌধুরী।এই মাষ্টাররুল অনুমোদন করেন তৎকালীন মহকুমা সেকেন্ড অফিসার ও ট্রেজারী অফিসার আব্দুস শহীদ চৌধুরী। তিনি সিলেটের লোক ছিলেন।সোনালী ব্যাংক এর তৎকালীন ম্যানেজার চালান পাওয়ার পর ব্যাংক থেকে অর্থ ছাড় করেছিলেন।২৯ মার্চ রাত আটটায় নজরুল ভাইদের সাথে মেজর জিয়া ও মীর শওকতের জেলা পরিষদে যে সভা হয় তাতে গেরিলা ট্রেনিং ও কক্সবাজারে পাকিস্থানি সেনাদের প্রতিরোধের কথা উঠে আসে। মেজর জিয়া বার্মার সহযোগীতা না পেলে গেলিলা যুদ্ধ সম্ভব নয় বলে নজরুল ভাইদের সাফ জানিয়ে দেন।
এই মোতাবেক অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী ও ডা: শামশুদ্দিন সাহেব মংডু রওয়ানা দেন। অতপর ঝিলংজা বিদ্যুৎ সাব ষ্টেশনের ওয়্যার হাউজের ভেতর অস্ত্র ভর্তি এক ট্রাক অস্ত্র রেখে মেজর জিয়া ৩০ মার্চ কক্সবাজার ত্যাগ করেন।

মীর শওকত কক্সবাজার পৌর প্রিপ্যারাটরী উচ্চ বিদ্যালয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের ট্রেনিং করাতেন।মীর শওকতের প্রযোজনীয় ব্যাবস্থার দায়িত্ব ও ছিলো বেশীর ভাগই নজরুল ভাই এর উপর।

বাঙালির মহান মুক্তিযুদ্ধের এই মহান সংগঠক পরবর্তীকালে জেলা আওয়ামীলীগ এর সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এই জেলায় রাজনীতি হতো পাকিস্তান আমলের কতিপয় জমিদার বাড়ীর বৈঠকখানায়।সেখান থেকে বঙ্গবন্ধুর শেখানো পথে নজরুল ইসলাম চৌধুরীরাই প্রথম রাজনীতিকে গণমানুষের দোরগোড়ায় পোঁছে দিয়ে এই অঞ্চলের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের গোড়া পত্তন করেন। তা ছাড়া নজরুল ইসলাম চৌধুরীকে এই অঞ্চলের ছাত্রলীগের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা বলে ও মনে করা হয়ে থাকে।

৮ জুলাই কক্সবাজারের এই অবিসংবাদিত জননেতা নজরুল ইসলাম চৌধুরীর ১ম মৃত্যু বার্ষিকী।তাঁর এই রাজনৈতিক জীবণ অনুসরণীয় অনেকের কাছে।তিনি শুধু মাত্র একজন রাজনৈতিক ব্যক্তি ছিলেন না সাহিত্য সংস্কৃতি ক্রীড়া সহ সমাজের বিভিন্ন সামাজি কাজে ও তাঁর ভূমিকা ছিলো অনন্যসাধারণ। এই অঞ্চলের এই কিংবদন্তী নেতা বাঙালির মহান মুক্তিযুদ্ধের এক মহান সংগঠক নজরুল ইসলাম চৌধুরীর প্রতি জানাই বিপ্লবী সালাম ও রক্তিম শুভেচ্ছা।

লেখক: কবি,নাট্যকার ও গবেষক।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2020
Design & Developed by : JM IT SOLUTION