1. rajoirnews@gmail.com : ABDUL AZIZ : ABDUL AZIZ
  2. gopalganjbarta@gmail.com : ashik Rahman : ashik Rahman
  3. news.coxsbazarvoice@gmail.com : ABDUL AZIZ : ABDUL AZIZ
  4. jmitsolutionbd@gmail.com : jmmasud :
শিক্ষানবিশ আইনজীবী, দুর্ভোগের শেষ কোথায় ? - Coxsbazar Voice
শনিবার, ১৯ জুন ২০২১, ০৫:২৭ অপরাহ্ন
দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।

শিক্ষানবিশ আইনজীবী, দুর্ভোগের শেষ কোথায় ?

  • প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ১ জুন, ২০২১, ৫.২৫ পিএম
  • ২০৬ জন সংবাদটি পড়েছেন।
এ এম মাসুদুল ইসলাম

এ এম মাসুদুল ইসলাম:
দীর্ঘদিন ধরে চরম দুর্ভোগের শিকার, মানবেতর জীবন যাপনকারী, সারাদেশের প্রায় ৭০ হাজার শিক্ষানবীশ আইনজীবীদের দুঃখ-দুর্দশার কোন অন্ত নেই, দুর্গতির কোন সীমা নেই। দীর্ঘ পড়াশোনার পাঠ চুকিয়ে তারা স্বপ্ন দেখেছিল আইনজীবি হবে, জীবন সাজাবে, দুঃখিনী মায়ের মুখে হাসি ফোটাবে। কিন্তু একটি অভিভাবক প্রতিষ্ঠান ‘বিবিসি এনরোলমেন্ট কমিটি’র অপরিণামদর্শিতা, হেয়ালিপনা ও কাণ্ডজ্ঞানহীনতার কারনে আইনজীবী তালিকাভুক্তির আশায় অপেক্ষার প্রহর গুণতে গুণতেই তাদের জীবন থেকে ঝরে গেল পাঁচ-সাতটি বছর, ফিকে হয়ে আসে ভবিষ্যৎ, শেষ পর্যন্ত তাদের আশায় গুড়েবালি, সরকারী চাকুরীর বয়সও হারিয়ে ফেলে অনেকেই ।

তিন ধাপের এনরোলমেন্ট পরীক্ষার নামে শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের মূল্যবান জীবনের নির্মম ধ্বংসযজ্ঞ চলতে থাকে। অথচ শিক্ষানবিশ আইনজীবীগণ মনে করেন, তাদেরকে আইনজীবী সনদ দেয়ার জন্য নুতন করে তিন ধাপের কোন পরীক্ষারই প্রয়োজন নেই। কারণ শিক্ষানবিশ আইনজীবীগন জীবনের বাঁকে বাঁকে দফায় দফায় পরীক্ষা দিয়ে (নূন্যতম এলএলবি অনার্স অথবা ডাবল গ্র্যাজুয়েশন-পাসকোর্স ) পাশ করেই শিক্ষানবিশ আইনজীবী হয়েছেন। অতঃপর সিনিয়রের অধীনে ছয়মাস প্র্যাকটিস সম্পন্ন করে ইন্টিমেশন জমা দিয়েছেন, তারপরই স্বীয় বৈধ পেশার সনদ দাবী করছেন। তাদের প্রশ্ন, এ বিষয়ে আর কত পরীক্ষা নামের প্রহসন? আর কত ষড়যন্ত্র, আর কত নাটক,

আর কত সংকীর্ণতা? আর কত সম্ভাবনাময় তরুনের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা? আর কত জীবন ধ্বংসের নির্মম পাশাখেলা ? আর কত পরিবারের স্বপ্ন চূরমার হলে, আর কত সম্ভাবনার মৃত্যু হলে, দেশে আর কত উচ্চশিক্ষিত বেকারের বোঝা বাড়লে, আর কত তরুনের জীবন ধ্বংস হলে সংশ্লিষ্ট কুম্ভকর্নের ঘুম ভাঙবে, দিবানিদ্রার অবসান ঘটবে ?

বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নিয়মানুযায়ী প্রতি ছয়মাস অন্তর আইনজীবী তালিকাভুক্তি পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও বিগত পাঁচটি বছরেও একটি তালিকাভুক্তি পরীক্ষা সম্পাদন করতে পারেনি বিবিসি এনরোলমেন্ট কমিটি, যা যারপরনাই দুর্ভাগ্যজনক। বছরের পর বছর অনিশ্চিত অপেক্ষা করতে করতেই অনেক শিক্ষানবিশের মূল্যবান জীবন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। তাদের ঘরে ঘরে নিরব ক্রন্দনরোল, আর্তনাদ-হাহাকার, বেকারত্বের অভিশাপে জর্জরিত পুরো পরিবার। অথচ এ আইনপেশা কোন বেতনধারী সরকারী চাকুরী নয়,একটি স্বাধীন পেশা। তারা কর্মস্থলে স্বীয় যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখেই নিজের ক্যারিয়ার গঠন করবেন, নিজের কর্মদক্ষতা দিয়েই আইনজীবী হিসেবে মক্কেলকে আইনি সহায়তা প্রদান করবেন, দক্ষতানুযায়ী আয় উপার্জন করবেন, পরিবারের অন্নের সংস্থান করবেন, বেঁচে থাকার লড়াই করবেন। তাদের এ বৈধ পেশায় আত্মনিয়োগের পথে আবার তিনধাপের পরীক্ষার নামে অহেতুক প্রতিবন্ধকতা কেন, তা চিন্তাশীলদের মোটেও বোধগম্য নয়।

যেখানে বঙ্গবন্ধু তনয়া দেশমাতা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য অহোরাত্রি প্রানান্তকর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, দেশে বেকার সমস্যা বিদূরিত করে প্রত্যেক ঘরে ঘরে চাকুরী দেয়ার মানসিকতা লালন করছেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করছেন, একটি সুখী সমৃদ্ধশালী বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গঠনে নিরলস পরিশ্রম করছেন, সেখানে বিবিসি(বাংলাদেশ বার কাউন্সিল) প্রণীত এহেন অদূরদর্শী, অপরিণামদর্শী ও ত্রুটিপূর্ণ এনরোলমেন্ট পরীক্ষাপদ্ধতির ফলশ্রুতিতে জাতিকে একটি উচ্চশিক্ষিত বেকারের বিশাল বোঝার অভিশাপ বয়ে বেড়াতে হবেনা তো ?

সারাদেশের বিজ্ঞ আইনজীবী সমাজের অভিভাবকতুল্য বাংলাদেশ বার কাউন্সিল -এর প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনপূর্বক বলতে চাই, যেকোন পরীক্ষায় কারো কোন আপত্তি নেই, কিন্তু তিন ধাপের এনরোলমেন্ট পরীক্ষার নামে সুদীর্ঘ কালক্ষেপন, হয়রানি ও প্রহসনে সকল বিবেকবান মানুষের ঘোর আপত্তি রয়েছে।
তাছাড়া যত ইচ্ছা পরীক্ষা নিন, আইন পাশ করার পূর্বেই। বিভিন্ন পরীক্ষায় কৃতকার্য হয়ে ল’ পাশ করার পরে পূণরায় তিনধাপের পরীক্ষার ফাঁদে ফেলে শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের জীবন ধ্বংসের নির্মম পাশাখেলা জাতীয়স্বার্থে পরিহার করাই বাঞ্ছনীয়। চলমান ত্রুটিপূর্ণ, অবাঞ্চিত ও অনুচিত এনরোলমেন্ট পরীক্ষাপদ্ধতির স্টীমরোলারে পিষ্ট-জর্জরিত বিপদাপন্ন অসহায় শিক্ষানবিশ আইনজীবী ভাইদের উপর অবিচার,বঞ্চনা, নিপীড়নেরও চির অবসান হওয়া জাতির জন্য কল্যাণকর। কারন, শিক্ষানবিশ আইনজীবীরা কোন ভিন গ্রহের বাসিন্দা নন, তারা এ দেশেরই নাগরিক, এদেশেরই সন্তান, আমাদেরই ভাই । তারাও জাতীয় উন্নয়ন ও অগ্রগতির সমান অংশীদার।

একান্তই অনাকাংখিত, দুঃখজনক ও অপ্রিয় হলেও নিরেট সত্য যে,বর্তমান বার কাউন্সিলের এনরোলমেন্ট পরীক্ষার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ (বিবিসি এনরোলমেন্ট কমিটি) ইতোমধ্যেই চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন, তারা দীর্ঘ পাঁচ বছরেও একটা ব্যাচ এর তথাকথিত তালিকাভুক্তি পরীক্ষা সম্পন্ন করতে পারেননি- ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায়, আন্তরিকতার ঘাটতি রয়েছে কিনা এ প্রশ্নও অযৌক্তিক -অবান্তর নয়, উপরন্তু এসব পরীক্ষাসমুহ মূলত পরীক্ষাবানিজ্যে পরিনত হয়েছে মর্মে জনশ্রুতিও রয়েছে , ফলশ্রুতিতে উক্ত কর্তৃপক্ষ যে কোন ধরনের পরীক্ষা নেয়ার যোগ্যতা হারিয়েছেন, হারিয়েছেন নৈতিক অধিকার, সারাদেশের অর্ধলক্ষাধিক শিক্ষানবিশ আইনজীবী পরিবারে বার-কাউন্সিলের ব্যাপারে আস্থার সংকট সৃষ্টি হয়েছে, অবিশ্বাস প্রকট আকার ধারন করেছে, যা কারো অস্বীকার করার কোন জো নেই । এহেন পরিস্থিতিতে চরম নিন্দনীয় ও নির্লজ্জ পরীক্ষা বানিজ্যের মূলোৎপাটন করে কলংকমুক্ত হওয়া অভিভাবকতুল্য বার-কাউন্সিল কর্তৃপক্ষের নৈতিক দায়িত্ব বলে বিবেকবান মহল মনে করেন ।

প্রবঞ্চিত শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের দুর্দশাগ্রস্থ পরিবারের প্রশ্ন, ইতোমধ্যেই প্রায় ৭০ হাজার রেজিষ্টেশনকৃত শিক্ষানবিশ আইনজীবীর জীবন থেকে নির্মমভাবে কেড়ে নেয়া মূল্যবান বছরগুলো ফিরিয়ে দেবে কে ? এ বিবেকবর্জিত কান্ডজ্ঞানহীনতার জন্য দায়ী কারা ? এসব উচ্চশিক্ষিত বেকারদের জীবনকে বেকারত্বের অভিশাপমুক্ত করবে কে? এটা কি লাখো শহীদের রক্তে কেনা স্বাধীন মাতৃভুমি ? নাকি কোন মগের মুল্লুক ? এসব প্রশ্নের জবাব দেবেন কে ?
তাহলে এদেশের প্রায় ৭০ হাজার রেজিষ্ট্রেশনকৃত শিক্ষানবিশ আইনজীবীরা কি একান্তই অভিভাবকহীন, তাদের চরম ভোগান্তি ও দুর্দশা লাঘবের কি কেউই নেই ???
উত্তরে বলবো, অবশ্যই আছেন। তাদের অসহায় পরিবারগুলো একবুক আশা নিয়ে অপলক তাকিয়ে আছেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা, মাদার অব হিউমিনিটি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিকে, যিনি পরম মমতায়, মাতৃস্নেহে সন্তানতুল্য একটি প্রজন্মকে নিশ্চিত ধ্বংসের কিনারা থেকে উদ্ধার করবেন, প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করবেন, জাতিকে বেকারত্বের অভিশাপমুক্ত করবেন।

এহেন করোনাকবলিত ক্রান্তিকালে আইনজীবী তালিকাভুক্তি বিষয়ে সারাদেশের রেজিষ্টেশনকৃত প্রায় ৭০ হাজার শিক্ষানবিশ আইনজীবীগন মহান নেতা বঙ্গবন্ধুর ১৯৭২ সালের সিদ্ধান্তের পুনরাবৃত্তি চায়, গেজেট করে সনদ চায়। প্রবঞ্চিত, নিপীড়িত শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের প্রতি সুবিচার করা হোক, বেতন-ভাতাবিহীন একটি পেশায় আত্মনিয়োগের পথ সুগম করা হোক, গেজেট করেই সনদ দেয়া হোক, অথবা পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রের নিয়মেই আইনজীবী সনদ দেয়া হোক। তাতে নিঃসন্দেহে জাতি উপকৃত হবে, একটি দিশেহারা প্রজন্ম ঘুরে দাড়াতে পারবে, বেঁচে থাকার দিশা পাবে।

তাদের দাবী কোন অযৌক্তিক দাবী নয়, এটা শিক্ষানবিশদের মৌলিক মানবিক অধিকার।
অতএব, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে সদয় বিবেচনার জন্য সম্মানিত বার কাউন্সিল নেতৃবৃন্দের প্রতি প্রায় ৭০ হাজার শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের পক্ষ থেকে মানবিক আবেদন ও বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি এবং সাথে সাথে বঙ্গবন্ধুতনয়া বঙ্গজননী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সদয়দৃষ্টি ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ প্রার্থনা করছি।
এ এম মাসুদুল ইসলাম ,সহসম্পাদক, বাংলাদেশ শিক্ষানবিশ আইনজীবী পরিষদ (BSAP)

ভয়েস/জেইউ।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2020
Design & Developed by : JM IT SOLUTION