1. rajoirnews@gmail.com : ABDUL AZIZ : ABDUL AZIZ
  2. gopalganjbarta@gmail.com : ashik Rahman : ashik Rahman
  3. news.coxsbazarvoice@gmail.com : ABDUL AZIZ : ABDUL AZIZ
  4. jmitsolutionbd@gmail.com : jmmasud :
জীববৈচিত্র্য নষ্ট করে সড়ক নির্মাণ - Coxsbazar Voice
বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১, ০৪:১৬ পূর্বাহ্ন
দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।

জীববৈচিত্র্য নষ্ট করে সড়ক নির্মাণ

  • প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ২ মার্চ, ২০২১, ১১.২৮ এএম
  • ৮৪ জন সংবাদটি পড়েছেন।
‘মুগ্ধতার সড়ক’ সম্প্রসারণের নামে পাহাড় কেটে সাবাড়!

ভয়েস নিউজ ডেস্ক:

এক পাশে সবুজের উঁচু-নিচু বিছানা, অন্য পাশে কাপ্তাই হ্রদের আকাশনীল জলরাশি। চোখে ধরা দেয় অনন্য সৌন্দর্য , যেন শিল্পীর তুলিতে আঁকা কোনও ফ্রেমবন্দি ছবি। অপরূপা রাঙামাটির আসামবস্তি-কাপ্তাইয়ের ১৮ কিলোমিটার দূরত্বের পুরো সড়কটি ছয় মাস আগেও ছিল এমন মুগ্ধতায় ভরা। এলাকাবাসী ভালবেসে এর নাম দিয়েছিল ‘মুগ্ধতার সড়ক’। ফলে পার্বত্য এই শহরে বেড়াতে আসা পর্যটকদের অনিবার্য গন্তব্য হয়ে ওঠে এই রাঙামাটি-কাপ্তাই নতুন সড়ক।

সেই সড়কটি প্রশস্ত করার উদ্যোগ নিয়ে এখন নষ্ট হয়ে গেছে এর রূপ। স্থানে স্থানে খাবলা দিয়ে কেটে নেওয়া হয়েছে পাহাড়, জীববৈচিত্র্যও পড়েছে হুমকির মুখে। সড়কের পাশের শতাধিক ছোট-বড় পাহাড় বা টিলা কাটলেও নেওয়া হয়নি পরিবেশ অধিদফতরের কোনও অনুমতি। সড়ক সম্প্রসারণের নামে এভাবে পাহাড় কাটার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে রাঙামাটির সুশীল সমাজ। নৈসর্গিক পরিবেশ আর জীববৈচিত্র্য নষ্ট করে যেনতেনভাবে সড়কটি প্রশস্ত করার দরকার আছে কিনা তারা তুলেছেন সে প্রশ্নও। তারা বলছেন, নান্দনিকতার দিক দিয়ে দারুণ দামি সড়কটি প্রশস্ত করার আগে পেশাদার প্রতিষ্ঠান দিয়ে জরিপ ও গবেষণা করানো উচিত ছিল। হুট করেই যেন তেনভাবে কাজ ধরে এর সৌন্দর্য নষ্ট করা কোনও দায়িত্বশীলতার মধ্যেই পড়ে না।

এলাকাবাসী বলছেন, সরকারি টাকা হরি লুটের উদ্দেশ্যে অপ্রয়োজনে রাঙামাটি-কাপ্তাই ১৮ কিলোমিটার সড়কটি সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এজন্য ব্যয় করা হচ্ছে প্রায় ৩২ কোটি টাকা।

স্থানীয়দের দাবি, শেষ ছয় মাসে সড়কটি হারিয়েছে নান্দনিকতা। ১২ ফুট চওড়া সড়কটিকে অপ্রয়োজনে ১৮ ফুট করতে গিয়ে কেড়ে নেওয়া হয়েছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। পুরো সড়কে অন্তত ১০০ পাহাড়ে পড়েছে ‘স্কেভেটরের কোপ’। সড়কের পাশে ড্রেন, বাথরুম, বসার স্থান নির্মাণের জন্য প্রকল্পের কাজ শুরু করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি)। আর তাতেই খসে পড়তে থাকে সড়কের চেনা রূপ।

সরেজমিন দেখা গেছে, সম্প্রতি এলজিইডি’র উদ্যোগে রাস্তাটি সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়ার পর কাটা হয়েছে শ’খানেক পাহাড়। এগুলো কাটা হয়েছে এমনভাবে যে কোনও কোনোটার এখন চিহ্নই নেই-পুরাটাই হাপিস; আর যেগুলোতে ‘খাবলা’ মারা হয়েছে সেগুলো কাটা হয়েছে খাড়া করে। ফলে ভারি বর্ষায় এগুলো মেরুদণ্ড ভেঙে হুমমুড়িয়ে পড়ে যাবে কিনা-সেটাই এখন চিন্তার। সৌন্দর্য দেখতে আসা পর্যটকদের যে এখন এক চোখ কাপ্তাইয়ের নীল জলরাশির দিকে রাখলে আরক চোখ পড়ো পড়ো পাহাড়ের দিকে রাখতে হবে তাতে কোনও সন্দেহই নেই। ফলে ‘মুগ্ধতার সড়ক’ সম্প্রসারণের নামে এভাবে অপেশাদার ঠিকাদারকে দিয়ে সৌন্দর্য নষ্ট করায় ভীষণ অসন্তোষ দেখা দিয়েছে স্থানীয়দের পাশাপাশি এই জায়গা আগে ঘুরে যাওয়া পর্যটকদের মধ্যে। নিয়ম না মেনে পাহাড় কাটার কারণে ক্ষোভ জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

আসাববস্তি-কাপ্তাই সড়কের বড়াদম এলাকার চা দোকানি ইন্দ্রবালা চাকমা অভিযোগ করেন, আমার পাহাড়টিতে বালু থাকায় ঠিকাদার আমাকে একটি টিনের ঘর ও চায়ের দোকানটি নতুন করে তুলে দেবে বলে থাকার ঘরটি অর্ধেক তুলে দিয়ে পুরো পাহাড়টি কেটে নিয়ে গেছে। এখন আর ফোন ধরে না। দেবে দেবে বলে শুধু ঘুরাচ্ছে আমাকে।

একই এলাকার বাসিন্দা মঙ্গল কুমার চাকমা বলেন, যেভাবে পাহাড় কাটা হয়েছে আগামী বর্ষাতে আবারও পাহাড় ধসের শঙ্কা তৈরি হয়েছে পাহাড়টি থাক থাক বা ঢাল (স্লোপ) করে না কাটলে বৃষ্টিতে পাহাড়ের মাটি ধসে আসবে।

আসাববস্তি-কাপ্তাই সড়কে সিএনজি চালক মো. খোরশেদ আলম ও জগৎ চাকমা বলেন, ‘যারা পাহাড় কাটছে তারা আরও বিপদ বাড়ালো মনে হয়। যেভাবে পাহাড়ের মাটি কাটছে বর্ষা মৌসুমে মাটি ভেঙে রাস্তায় পড়লে রাস্তা বন্ধ থাকবে। আবার যদি গাড়ির ওপরে পড়ে তাহলে তো জীবন শেষ হয়ে যাবে। পাহাড় কাটার নিয়ম না থাকলেও এগুলো কিভাবে করলো? অপরাধ তো করেছে, তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে নিরাপদ সড়ক তৈরির জন্য স্লোপ করার দাবি জানাচ্ছি।’

রাঙামাটি পরিবেশবাদী সংগঠন গ্লোবাল ভিলেজের নির্বাহী পরিচালক ফজলে এলাহী বলেন, সড়ক উন্নয়নের নামে দেদারছে কাটা হচ্ছে পাহাড়, কোনও নিয়ম মানা হয়নি। আমি যতটুকু জেনেছি পাহাড় কাটার ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনও ছিল না। যারাই এই কাজে জড়িত থাকুক না কেন তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া না হলে পাহাড় কাটার প্রবণতা বন্ধ হবে না। এ কাজটি করার আগে এই সড়কটির সৌন্দর্য নষ্ট না করে কিভাবে সম্প্রসারণ করা যায় যে বিষয়ে আরও গবেষণা ও জরিপ করা উচিত ছিল। বিশ্বের অনেক দেশেই এমন সড়কগুলো গবেষণার মাধ্যমে সংস্কার করা হয়। এ বিষয়টা এলজিইডি’র বিবেচনায় নেওয়া উচিত চিল।

রাঙামাটি দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি (দুপ্রক) সভাপতি ওমর ফারুক বলেন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও অর্থনতিক দিক থেকে আসামবস্তি-কাপ্তাই সড়কটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই সড়কটির উন্নয়ন হোক এটি আমরা চাই কিন্তু উন্নয়নের নামে যেভাবে পাহাড় কাটা হচ্ছে সেটা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এই ব্যপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও যত্নশীল হওয়ার অনুরোধ করবো।

রাঙামাটির প্রবীণ সাংবাদিক সুনীল কান্তি দে বলেন, পাহাড়ে উন্নয়ন অবশ্যই প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু, আগে ভেবে দেখেতে হবে সড়কটি সম্প্রসারণের মতো জায়গা আছে কিনা এবং একইসঙ্গে যারা সড়কটি সম্প্রসারণের নামে পাহাড় কাটছেন তাদের পাহাড় কাটার অনুমতি আছে কিনা। পাহাড় কাটা একটি অপরাধ সেটি সরকারি কাজেই হউক বা ব্যক্তিমালিকানাই হোক। এই কাজটা যারা করছে শুধু তাদের লাভের জন্যই কাজটি করছে।

তবে শুধু যে সড়ক সম্প্রসারণের কারণেই পাহাড় কাটা পড়েছে তা নয়। এই সুযোগটাকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় অধিবাসীদের অনেকেও সুযোগ বুঝে ঠিকাদারের আনা স্কেভেটরের চালক-মালিকদের সঙ্গে তেলের খরচ দেওয়ার চুক্তি করে তাদের মালিকানায় থাকা পাহাড় কেটে নিয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যক্তি এ তথ্য জানিয়ে বলেছেন, এসব জায়গায় নতুন ঘর, রেস্তোরাঁ ইত্যাদি করার পরিকল্পনা রয়েছে জমির মালিকদের।

সড়কটি নির্মাণের কাজটি করছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রাঙামাটি ট্রেডার্স। সড়ক নির্মাণে পাহাড় কেটে বালু ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। তারা পাহাড় কাটার কথা স্বীকারও করেছে।

জানতে চাইলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রাঙামাটি ট্রেডার্স এর পরিচালক নিজাম মিশু বলেন, রাস্তা সম্প্রসাণের জন্য কিছু পাহাড় কাটা পড়েছে। তবে শুধু আমরাই নই, একইসঙ্গে ব্যক্তি উদ্যোগে ব্যক্তি মালিকানাধীন জায়গাতেও রিসোর্ট বা বাড়ি তৈরির কাজে অনেকে পাহাড় কেটেছে। সেসবের দায় তো আমরা নিতে পারবো না।

পাহাড় কাটার বিষয়ে পরিবেশ অধিদফতরের অনুমতির প্রয়োজন। তবে রাঙামাটি সদর উপজেলার এলজিইডি প্রকৌশলী ফয়জুর রাজ্জাক দাবি করেছেন, ২৪ ফুট পর্যন্ত সড়ক সম্প্রসারণে পরিবেশ অধিদফতরের অনুমতির প্রয়োজন নেই।

তিনি বলেন, যে ছোট খাট পাহাড় কাটা পড়েছে আমরা মনে করেছি তার জন্য অনুমতির প্রয়োজন নাই। কেউ যদি ব্যক্তিগত ভাবে পাহাড় কেটে থাকে তার জন্য তো আমরা দায় নিতে পারি না।

তিনি আরও বলেন, যারা ব্যক্তিগতভাবে পাহাড় কাটছে তারা অর্থনৈতিকভাবে সবল না, একটা স্কেভেটর ওই স্থানে নিতে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকার প্রয়োজন। এখন আমাদের ঠিকাদারের স্কেভেটর তারা ওখানে পেয়ে ওদের তেল খরচ দিয়ে তাদের পাহাড় কেটে নিয়েছে বলে শুনেছি। এভাবে কিছু পাহাড় কাটা হয়েছে। এসবের দায় তো আমরা নিতে পারবো না।

পাহাড়গুলো ঢাল করে কাটা হয়নি কেন এমন প্রশ্নের জবাবে কিছু বলতে চাননি তিনি।

তবে স্থানীয় এক ব্যক্তি এর কারণ ব্যাক্যা করে বলেন, যদি মানুষ দিয়ে পাহাড় কাটা হতো তাহলে নিজেদের সুরক্ষার জন্যই তারা ঢাল বানিয়ে পাহাড় কাটতো, কারণ এমন খাড়া করে কাটলে সব মাটি তাদের গায়ে ধসে পড়তো। কিন্তু, স্কেভেটরের মাধ্যমে মাটি কাটায় এই যন্ত্র দিয়ে ঢালের বদলে ভেতরে গর্ত করে মাটি বের করে আনা সহজ হয়েছে। যদিও এটা হয়েছে পুরোপুরি বিপজ্জনক।

এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদফতরের চট্টগ্রাম আঞ্চলিক অফিসে যোগাযোগ করা হলে রাঙামাটির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, এ বিষয়ে এ মুহূর্তে কিছু বলতে পারবো না। পাহাড় কাটার বিষয়ে জানানো হলে তিনি বলেন, এমন ঘটনা তাদের জানা নেই। আগে অভিযোগও পাননি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সূত্র:বাংলাট্রিবিউন।

ভয়েস/জেইউ।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2020
Design & Developed by : JM IT SOLUTION