1. rajoirnews@gmail.com : ABDUL AZIZ : ABDUL AZIZ
  2. gopalganjbarta@gmail.com : ashik Rahman : ashik Rahman
  3. news.coxsbazarvoice@gmail.com : ABDUL AZIZ : ABDUL AZIZ
  4. jmitsolutionbd@gmail.com : jmmasud :
করোনার ঢেউতে থেমে গেছে সৈকতে মানুষের ঢেউ - Coxsbazar Voice
বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১, ০৫:৫৪ পূর্বাহ্ন
দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।
শিরোনাম :

করোনার ঢেউতে থেমে গেছে সৈকতে মানুষের ঢেউ

  • প্রকাশিত : বুধবার, ২১ জুলাই, ২০২১, ৭.৪৯ পিএম
  • ১৮ জন সংবাদটি পড়েছেন।

আবদুল আজিজ:

একের পর এক করোনার ঢেউতে থেমে গেছে সৈকতে ভ্রমনে আসা মানুষের ঢেউ। যেন নিস্তব্দ নিরবতা। প্রতিবছর ঈদ ও সরকারি ছুটিতে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে উপচেপড়া মানুষের ভিড় থাকলেও গত দুই বছর ধরে সৈকতের ভিন্ন চিত্র ফুটে উঠেছে। ফলে এবারের ঈদুল আজহার সময়েও পর্যটক শুন্য হয়ে পড়েছে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউতে চলতি বছরের ১ এপ্রিল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সৈকত ভ্রমন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন। একই সাথে জেলা শহরের বাইরের বিনোদনকেন্দ্র গুলোর উপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। একারণে এই দীর্ঘ সময় ধরে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে কোন পর্যটক ভ্রমনে নামতে দেয়নি স্থানীয় প্রশাসন। সৈকতের লাবনী পয়েন্ট, সুগন্ধা পয়েন্ট থেকে শুরু করে সবখানে পর্যটন শুন্য হয়ে পড়েছে। আর পর্যটক না থাকায় সৈকতের দোকান-পাটও বন্ধ রয়েছে। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে কোন পর্যটক সৈকত ভ্রমণ করতে পারছে না।

দেশের অন্যান্য স্থানের মত কক্সবাজারেও করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। একদিকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো সংক্রমণ বৃদ্ধি, অন্যদিকে স্থানীয়দের মধ্যেও করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে দিন দিন। এ পরিস্থিতিতে সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়েছে পর্যটন নগরী কক্সবাজার। বন্ধ রয়েছে কক্সবাজারের সাড়ে চার শতাধিক হোটেল-মোটেল গেস্টহাউস। তিন শতাধিক রেস্টুরেন্ট, বিপণিবিতান, সৈকত সংলগ্ন শপিং মল, সৈকতের কিটকট, ট্যুর অপারেটরদের কার্যক্রম, বিচ বাইকসহ পর্যটন সংশ্লিষ্ট সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।

কক্সবাজার বীচ কিটকট মালিক সমিতির সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত এখন পর্যটক শুন্য। মানবশুন্য সৈকত বর্তমানে শুনশান নিরবতা। দীর্ঘ ৩ মাস ধরে সৈকতে কোন ধরণের মানুষ প্রবেশ করতে দেয়নি প্রশাসন। কাজেই কিটকট ব্যবসায়ীরা ভাল থাকার কথা না। সৈকতে কিটকট মালিক -কর্মচারী সহ ১ হাজার মানুষ এই তিন মাস ধরে বেকার। তাদের কোনো প্রকার আয় রোজগার নেই। ইতিমধ্যে অনেকেই অর্থসংকটে পড়েছেন। ফলে আমরা সবাই অসহায় হয়ে পড়েছি।’

কক্সবাজার হোটেল-মোটেল গেস্টহাউস অফিসার্স এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক করিম উল্লাহ বলেন, ‘করোনার কারণে দফায় দফায় লকডাউনে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে কক্সবাজারের পর্যটন শিল্প। এবারও এর কোন ব্যতিক্রম হয়নি। করোনার দ্বিতীয় ঢেউতে পর্যটন বন্ধ থাকায় কক্সবাজারের সাড়ে ৪ শতাধিক হোটেল-মোটেল গেস্ট হাউসগুলোতে কর্মকর্তা সহ ১ লাখ শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে।’

ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ ট্যুয়াকের সভাপতি তোফায়েল আহমদ বলেন, ‘করোনার নিষেধাজ্ঞা থাকায় কোন পর্যটক কক্সবাজার ভ্রমণে এসেছে কিনা জানা নেই। এবারের ঈদুল আজহায় করোনার এই পরিস্থিতে কোন পর্যটক কক্সবাজার আসাও উচিত হবে না। আগে জীবন পরে পর্যটন।’

কক্সবাজার কলাতলী মেরিনড্রাইভ রোড হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুখিম খান বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন থেকে কক্সবাজার পর্যটন আগমনে নিষেধাজ্ঞা জারি করায় বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত বর্তমানে পর্যটক শূন্য। হোটেল কর্মচারীরা অলস জীবনযাপন করছে। প্রতিদিন খরচের খাতা ভারি হলেও আয়ের খাতায় একেবারেই জিরো।’

কক্সবাজার হোটেল মোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সিকদার জানান, ‘করোনার দ্বিতীয় ঢেউতে কক্সবাজারের সাড়ে ৪শতাধিক হোটেল-মোটেলে কোথাও কোন ধরনের রুম বুকিং নেই। কারণ, এবারের ঈদেও পর্যটক আসবে না।’

ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের পুলিশ সুপার মো: জিল্লুর রহমান জানান, ‘করোনার সংক্রমনরোধে বিধি-নিষেধ আরোপ করার ফলে এই পর্যন্ত কোন পর্যটক সৈকত ও বিনোদনকেন্দ্র গুলোতে ভ্রমণ করতে পারেনি। কেউ যাতে সমুদ্র সৈকতে নামতে না পারে কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশ ও কক্সবাজার জেলা প্রশাসন সতর্ক রয়েছে।’

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট (পর্যটন সেল) মো: আবু সুফিয়ান বলেন, ‘কক্সবাজারে এখন করোনার উর্ধ্বগতি। একারণে কক্সবাজার পর্যটন খুলে দেয়ার কোন চিন্তাভাবনা নেই। যদি করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়, তাহলে পর্যটন খুলে দিতে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আমরা আবেদন করবো’।

উল্লেখ্য, গত তিন মাস ধরে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতস্থ লাবণী পয়েন্ট, সুগন্ধা পয়েন্ট, ডায়াবেটিক পয়েন্ট, হিমছড়ি, সী-গাল পয়েন্ট, মোটেল শৈবাল মোড়, বালিকা মাদ্রাসাসহ আশপাশের কোন এলাকায় একেবারেই পর্যটক শূন্য। কোথাও একজন পর্যটক কিংবা স্থানীয় লোকও নেই।

ভয়েস/ জেইউ।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2020
Design & Developed by : JM IT SOLUTION