1. rajoirnews@gmail.com : ABDUL AZIZ : ABDUL AZIZ
  2. gopalganjbarta@gmail.com : ashik Rahman : ashik Rahman
  3. news.coxsbazarvoice@gmail.com : ABDUL AZIZ : ABDUL AZIZ
  4. jmitsolutionbd@gmail.com : jmmasud :
'চিরদুঃখ' ঘুচাতে আশেকের পানে মহেশখালীবাসী - Coxsbazar Voice
বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০, ১২:০৯ পূর্বাহ্ন
দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।

‘চিরদুঃখ’ ঘুচাতে আশেকের পানে মহেশখালীবাসী

  • প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ৯.২০ পিএম
  • ৫১৭ জন সংবাদটি পড়েছেন।
তিনি মহেশখালী নিয়ে ভাবেন। ঘাটের এই ছবি তোলার মাধ্যমে বুঝা যায়। ছবিটি যারা দেখেছিল তারা বড় মন নিয়ে আশা করছিল হয়তো এবার মহেশখালীবাসির দুঃখ ঘুচবে। তাঁর প্রচেষ্টায় দীর্ঘ তিন যুগ পর ড্রেজিং হয়েছিল, ৬নং ঘাটে যাত্রী ছাউনিও হয়েছিল। যার দরুন যাত্রীরা কিছুটা সুবিধা পেয়েছিল। কিন্তু মূল অভিযোগ থেকে মহেশখালীবাসি মুক্তি পায়নি, এখন চান।ছবি-সংগৃহীত।

জিকির উল্লাহ জিকু/ এস.এম রুবেল:

নিরাপদ যাত্রী সেবায় গণপরিবহন ওয়াটার বাস চালুর দাবি
সমস্যা সমাধানে এমপি আশেকের আন্তরিক দৃষ্টি আকর্ষণ

‘একটি দুর্ঘটনা সারা জীবনের কান্না’ এরকম একটি সারাজীবনের কান্নার সঙ্গী হলো কলেজ ছাত্র তোফাইল মাহামুদের পরিবার। যে হারায় সে বুঝে এরকম বেদনার কী কষ্ট। কলেজ ছাত্র তোফাইল মাহামুদের অনাকাঙ্খিত দুর্ঘটনার এই মৃত্যু আবেগ ছুঁয়েছে মহেশখালীর আমজনতার হৃদয়ের মণিকোঠায়। পুরো দ্বীপসহ কক্সবাজারে ঘাটের ব্যবস্থাপনা নিয়ে তীব্র সমালোচনা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।
এই ঘাটে এর আগেও অনেক সম্ভাবনাময়ী, জ্ঞানী-গুণী মানুষের প্রাণ সংহার হয়েছে। সর্বশেষ মেধাবী তোফাইল মাহমুদ।

অভিযোগ অধিকাংশ মহেশখালীবাসীর, মহেশখালী-কক্সবাজার ঘাট সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হলে অনেক ক্ষেত্রে এরকম মর্মান্তিক মৃত্যুর দায় এড়ানো যেত। অনেকরই প্রশ্ন এমন মৃত্যুর দায় কার? কিন্তু কারো কাছে এর উত্তর নেই।
তোফাইল মাহমুদের পরিবারের মতোই ‘সারাজীবনের কান্না’ বয়ে বেড়াচ্ছে বর্তমান এমপি আশেক উল­াহ রফিকও। দায়িত্বশীল ব্যক্তি এবং নিদারুণ এমন কষ্টের ভাগিদার হিসেবে স্বভাবতই তাঁর কাছে প্রায় সাড়ে চার লক্ষ (৩,২১,২১৮ জন ২০১১ আদমশুমারী অনুযায়ী)
মহেশখালীবাসির প্রত্যাশা ঘাটের বর্তমান ব্যবস্থাপনার পরিবর্তনে বাস্তব ভূমিকা রাখার। এনিয়ে তাঁর কাছে বড় প্রত্যাশা নিয়ে পিতা এড.রফিক উল­াহ করুণ মৃত্যু স্মরণ করে দিয়ে কিছু করার তীব্র আকুতি জানান মহেশখালীর মানুষ।

মহেশখালী জেটির পাশে নাব্যতা দূর করতে ড্রেজিং করার দৃশ্য।

আশা-নিরাশা:
২০১৭ সালে মানুষ আশান্বিত হয়েছিল। যখন দীর্ঘ তিন যুগপর খাল মহেশখালী খাল ড্রেজিং শুরু হয়।পাশাপাশি ৬ নং বিআইটিডব্লিউ ঘাটে টার্মিনাল যাত্রী ছাউনি মানুষের কিছুটা স্বস্তি দিয়েছিল। আশা জাগিয়েছিল। যার জন্য এমপি, মেয়রের প্রতি সাধারণ মানুষ আশা রেখেছিল। এবার অন্তত ঘাটের পরিবর্তন হবে। কিন্তু এসবে মানুষ সুযোগ সুবিধা পেয়ে থাকলেও ঘাটের মূল অভিযোগ অতিরিক্ত টোল আদায়, হয়রানি, যাত্রী অবহেলা শেষ হয়নি।
গতবছর রেডিয়েন্ট ফিস ওয়ার্ল্ডে মহেশখালী সমিতির সভায়ও প্রধান বিষয় ছিল ঘাটের অনিয়ম। সেসময় আসিতেছে ফেরি দুর হবে দুঃখ এমন আশার কথা বলেছিল নেতৃবৃন্দরা।

দুর্ঘটনা বিষয়ে কর্তৃপক্ষ:
কথা হয় ওই দিন ঘাটে দায়িত্ব পালনরত (ডিডিএলজি অফিসের) জসিম উদ্দিনের সাথে, তিনি ওই সময় মহেশখালী ঘাটে অবস্থান করছিলেন উলে­খ করে বলেন, ২০ সেপ্টেম্বর প্রায় সন্ধ্যায় ঘটা দুর্ঘটনাটি অনাকাঙ্খিত দুঃখজনক। প্রশ্ন করলে বলেন, এই দুর্ঘটনার পেছনে জনসাধরণের দুর্ঘটনার জন্য অব্যবস্থাপনা দায়ির অভিযোগ সঠিক নয়। অনুমোদিত সময়েই যাত্রী নিয়ে বোট ছাড়া হয়। র্দুভাগ্যজনকভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটে। তার মতে, এটা একটা অনিয়মিত দুর্ঘটনা।

৬ নং ঘাটে কর্তৃপক্ষের অবহেলার দৃশ্য। ফাইল ছবি।

জানতে চাইলে মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাহাফুজুর রহমান বলেন, একটি অপ্রত্যাশিত দুর্ঘটনা যেহেতু ঘটেই গেছে এবিষয়ে কোস্টগার্ড এবং তার স্বজন ও প্রশাসনের লোকজন উদ্ধার কার্যক্রম চালাচ্ছে। চেষ্টা করা হচ্ছে যাতে জীবিত উদ্ধারের।

মহেশখালী ঘাটে বোটে একযাত্রী উঠতে গিয়ে পড়ে যাচ্ছে।ফাইল ছবি।

ডিডিএলজি অফিস সূত্র বলেন, কক্সবাজার থেকে মহেশখালী যাওয়ার পথে যে দুর্ঘটনাটি ঘটে এটি খুবই দুঃখজনক, মর্মান্তিক। তবে এটি অনাকাঙ্খিত দুর্ঘটনা। মহেশখালীর আবহমান কাল থেকেই এই বোট দিয়ে মানুষ পারাপার করে। ওই দিন ঘটনাটি স্পীড বোটের সাথে হয়নি। হয়েছিল গাম বোটের সাথে, গামবোট অনেকটা তুলনামুলকভাবে স্পীড বোটের চেয়ে নিরাপদ। ফিশিং বোটের অসতর্কতার কারণে ঘটতে পারে বলে ধারণা। তিনি বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবসময় চেষ্টা করা হয় সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার।যদি যাত্রীসাধারণ লাইফ জ্যাকেট পরে পার হতো তাহলে আরো নিরাপদভাবে যাত্রীগণ পার হতে পারতো দুর্ঘটনাও এড়ানো যেত। ওয়াটার বাস চালুর বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, এই ধরণের উদ্যোগ গ্রহণ করলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করা হবে বলে উলে­খ করেন।

৬নং ঘাটে এক রোগি নিয়ে স্বজনদের দুভোর্গ।ফাইল ছবি।

মহেশখালীবাসি এমপির কাছে চায়:

গোরকঘাটার বাসিন্দা মোঃ কায়সার তাঁহার ফেসবুকে হৃদয়ের সকল আবেগ দিয়ে লিখেন, “মাননীয় সাংসদ জনাব আশেক উল­াহ রফিক, মহেশখালীর রতœ, সর্বজন শ্রদ্ধেয় আপনার পিতা মরহুম এড. রফিক উল্লাহ সাহেব মৃত্যুবরণ করেছিলেন এই গোরকঘাটা- কক্সবাজার ফেরীঘাট হয়ে পারাপারের সময়। যতটুকু মনে পড়ে, দিনটি ছিল রৌদ্রস্নাত আলোকোজ্জ্বল একটি দিন। আবহাওয়াও চমৎকার ছিল। শুধুমাত্র ঘাট কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনা, চলাচলের অনুপযোগী নড়বড়ে কাঠের বোট, ধারন ক্ষমতার বহুগুন বেশি যাত্রী পরিবহন সেদিনের দুর্ঘটনার কারন মর্মে জানা যায়। সেদিন মহেশখালীর বহু লোকের সাথে আপনার পিতা পরম শ্রদ্ধাভাজন জনাব এড. রফিক উল­াহ সাহেবও সলিলসমাধির মাধ্যমে শহিদী মৃত্যু কবুল করেন। মহেশখালীবাসী হারান অমুল্য এক সম্পদ।
এরপর কতশত দুর্ঘটনা ঘটে গেল আর কত যে মৃত্যু হলো তার হিসাব নিশ্চই আপনি রাখেন নি। একটু খবর নিয়ে দেখুন এই ঘাটে কত সম্ভ্রান্ত উচ্চশিক্ষিত মানুুষ হয়রানির প্রতিবাদ করায় লাঞ্চিত হয়েছেন। কতশত নারী সম্ভ্রম হারিয়েছেন। এবং কত নীরিহ যাত্রী মারধরের শিকার হয়েছেন। সর্বোপরি দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর কথা বলাই বাহুল্য। তিনি প্রশ্ন রেখে আরো লিখেন,  কিন্তু আপনি এসব বিষয়ে নির্বিকার। আপনার সবকিছু দেখেও না দেখার ভান করাটা লোকজন আশা করেনা। ফেরী চলাচলের জন্য যখন ড্রেজার এনে খাল কাটা শুরু হলো তখন মহেখালীবাসী আশায় বুক বেঁধেছিল এবার হয়ত এমপি সাহেব সত্যি সত্যি আমাদের দুঃখ উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়েছেন। কিন্তু দিন, মাস এমনকি বৎসর পার হয়ে গেলেও কাটা খাল কাটাই রয়ে গেল। ফেরী আর আসলনা। কবে আসবে, কিংবা আদৌ আসবে কিনা কেউ জানেনা। তাই আমরা কেউই বলতে পারছিনা খালটা কেনইবা কাটা হলো! ফেরী আনার জন্য? নাকি কুমির?”

কবি ও লেখক জাহেদ সরোয়ার ভবিষ্যতের করণীয় উলে­খ করে লিখেন, ক্ষনিকের উত্তেজনায় মানববন্ধন করে লাভ হবে না। এই ঘাট নিয়ে সবচাইতে বেশি প্রতিবাদ করছিলেন মহেশখালীর রতœ রফিক উল­াহ। তার সন্তান আমাদের প্রিয় আশেক ভাই আজ মহেশখালীর এমপি। আর ঘাট সংক্রান্ত বিষয়গুলো দেখে মনে হয় ডিসি সাহেব। এই দুজনের সাথে সরাসরি কথা বলতে হবে। এভাবে মরতে পারি না। কে কে যাবেন?

সংবাদিক এস.এম রুবেল লিখেন, “সবুজ-শ্যামল, পাহাড়ঘেরা, প্রাকৃতিক সম্পদের এই মহেশখালী ধ্বংসের কারিগর আমরাই। মহেশখালী-কক্সবাজার নদীপথে গতকাল শুধু তোফাইলকে হারিয়েছি তা নয়। প্রতি বছর এরকম মৃত্যুর সাক্ষী হয় এ জনপদের মানুষ। যখনই কোন দুর্ঘটনা ঘটে তখনই দু’দিনের জন্য সবাই প্রতিবাদী হয়। দু’দিনের মায়া কান্নার পর ঘাটের অব্যবস্থাপনা অপরিবর্তিত থাকে। তাতে আমাদের কারো মাথাব্যাথা থাকেনা। আমরা আবারো অপেক্ষা করি আরেকটা মৃত্যুর। যেন মায়া কান্নার আরো দু’দিন সময় পাই। এই ফাঁকে কিছু মানুষের রাজনীতি করার সুযোগও হয়।”

মহেশখালী প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল বশর পারভেজ আক্ষেপ করে লিখেন, রশিদ মিয়া, ইসহাক মিয়া, জহিরুল ইসলাম, আলমগীর ফরিদ (দুইবার) হামিদ আযাদ, আশেক উল­াহ রফিক (দুইবার) এমপি,র সময়ে ঘাটের পাপের মুচন হয়নি।”

মহেশখালী পৌরসভার বাসিন্দা দৈনিক সমকাল মহেশখালী প্রতিনিধি ও সাবেক কাউন্সিলর সাহাব উদ্দিন লিখেন, “ফেরি দিয়ে কোন লাভ হবে বলে মনে করি না। যদি সেতু হয় তা হলে মহেশখালীর মানুষ ঘাটের নির্যাতন থেকে রক্ষা পেতে পারে।”

মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল মেম্বার ও আইনজীবী ফারুক ইকবাল কর্তৃপক্ষ দায়িত্ব এড়াতে পারেন উলে­খ করে লিখেন, “চট্টগ্রাম কলেজের মেধাবী ছাত্র তোফাইল ফেরীঘাটে বর্বর অব্যবস্থাপনার কারনে নিহত হলে দায়িত্ব বর্তাবে জেলা প্রশাসনের উপর! কারন মহেশখালী ফেরীঘাট নিয়ন্ত্রণ করে জেলা প্রশাসন।”

মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার তোফাইলের বাড়িতে,মাকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন।

সাংবাদিক গাজি আবু তাহের লিখেন, “মহেশখালী টু কক্সবাজার যাত্রী পারাপারে! অদক্ষ অপ্রাপ্ত বয়স্ক বোট চালক! আইনি পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করেন মহেশখালী বাসী।” ছোট মহেশখালীর বাসিন্দা সাংবাদ কর্মি তারেক হতাশা মনে লিখেন, আশার বাণীতে নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে মহেশখালী।”

মাসুদ হোসেন মহেশখালী-কুতুবদিয়া সংসদীয় আসনের এমপি প্রার্থী ছিলেন যিনি বাঁকখালীতে নৌকাডুবি
শিরোনাম দিয়ে অতীত স্মরণ করে লিখেন, “প্রবীণ নেতা এডভোকেট রফিক উল­াহ থেকে সম্ভাবনাময় তরুণ তোফায়েল, আর কত মৃত্যুর মিছিল?”

দুর্বৃত্তায়ন শেষহোক আশা করে লিখেন, মহেশখালীর ছোট মহেশখালী ইউনিয়নের বাসিন্দা সমাজ বিজ্ঞানী সাহাদত উল্লাহ খান-“তোফায়েল একজন তরুণ। চট্টগ্রাম কলেজের শিক্ষার্থী। গতকাল মহেশখালি –ককসবাজার নৌ পারাপারের সময় সাগরে দুর্বৃত্তায়নের শিকারে প্রাণ গেল। একদল দুর্বৃত্ত ও লুটেরা সমগ্র মহেশখালিকে জিম্মি করে রেখেছে। অবিলম্বে এই দুর্বৃত্তায়ন ও জুলুমের অবসান করতে হবে। অযোগ্য ও গণবিরোধী নেতাদের কারণেই এই অবিচার ও অনাচারের সৃষ্টি।” তার উত্তরে খোন্দকার পাড়া বাসিন্দা আজিজ খান উত্তরে লিখেন, “পেশা কিংবা রাজনীতি কোনটিতেই জনগণের দূর্ভাগা বাড়িয়ে কখনো কেউ ক্ষমতা টিকে থাকতে পারেনি।
সেবা দিয়ে জনগণের বিশ্বাস ও আস্থা অর্জনের কোন বিকল্প নেই।আশা করি জনগণের যারা প্রতিনিধি তাদের এবার শুভবুদ্ধির পরিচয় দিবে এবং সচেতনতা তৈরি হবে।”

পৌরসভার বাসিন্দা সমাজকর্মি, সাংবাদিক আ নম হাসান লিখেন, “ডিসি রফিকের শ্লেষ্মা মিশ্রিত কটু কথা যাদের গায়ে লাগেনা স্রেফ স্পিড বোটের আশায়- সাধারণের এতো প্রতিবাদ, আর্তনাদে তাদের কি বা আসে যায়”

এনজিও কর্মি আবু কায়সার লিখেন, “মহেশখালী ঘাট হোয়াং হো খ্যাত এর সঠিক সমাধান মহেশখালী বাসী আর কতকাল এর গজব বয়ে বেড়াবে।মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে দিন দিন।অসীম দাপট নয় আমরা শান্তিপূর্ণ এ ঘাটের পরিচালনা চাই।যেখানে নৌ ব্যবস্হাপনা ও নৌ ট্রাফিক থাকাটা জরুরি।স্বাধীন দেশের পরাধীন প্রদেশ ব্যবস্থার উদাহরণ মহেশখালী হবে কেন।আমরা কোন ভাবে দাপটের শিকার হতে চাই না আর।”

মহেশখারী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক একে আজাদ মহেশখালীর দূঃখ এই ঘাট শিরোনাম দিয়ে লিখেন, দুর্বৃত্তায়ন ও অনিয়মের মেলা এই মহেশখালী টু কক্সবাজার পারাপার ঘাট।কোন অবস্থাতেই এই ঘাটের দুঃসহ পরিস্থিতি থেকে মহেশখালী বাসীর মুক্তি মিলছেনা।পুরো কক্সবাজার জেলার নেতৃত্ব কিন্তু মহেশখালীর হাতে এটা কেউ অস্বীকার করতে পারে না।তাহলে আর কখন এই মরণফাঁদ থেকে মহেশখালীবাসীর মূক্তি আসবে?রাত্রে বোটে লাইট থাকার কথা ছিল কিন্তু লাইট ছিল না।ঘাইঠ্যাদের কছে কি মানুষের জীবনের মূল্য মোটেও নেই?সিপাহীর পাড়ার উদীয়মান তরুন তোফাইল কি এভাবেই চলে যাবে?”

সমাজকর্মি ও মিডিয়া কর্মি কক্সবাজারের বাসিন্দা এমরান ফারুক অনিক দাবি তুলে লিখেন, “মহেশখালী চ্যানেলে নৌকা ডুবে বা সংঘর্ষে নিহতরা রাজনৈতিক অনাচার ও দুর্বৃত্তায়নের শিকার! প্রতিটি মৃত্যুর জন্য পৌর মেয়র মকছুদ ও সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা রুজু করার দাবি জানাই এবং অবিলম্বে ফেরি সার্ভিস চালু করা হউক।”

হোয়ানক ইউনিয়নের বাসিন্দা যুবলীগ নেতা জাফর আলম আশান্বিত মনে লিখেন, “আমার জানামতে শীঘ্রই মহেশখালী-চৌফলদন্ডী নৌরুট ফেরি পারাপার চালু করতে যাচ্ছে সরকার। দ্রুত কাজ চলছে।তবে তদবীর কারীর অভাবে এটি এখনো চালু করা গেল না খবর সংশ্লিষ্ট দপ্তরের।আর এটি চালু হলে ভাগ বাটোয়ার মজা থাকবেনা।বাকিটা বুঝে নিবেন।”
বড় মহেশখালীর বাসিন্দা হারুনুর রশীদ লিখেন, “স্পীডবোটে লাইফ জ্যাকেট পরিধান বাধ্যতামূলক করা হোক। কেবলমাত্র কোন দূর্ঘটনা ঘটলেই কয়েকদিন বোটে এসব জ্যাকেট দেখা যায়, অন্যসময় নয়।”

বড় মহেশখালীর বাসিন্দা কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এড.সিরাজুল মোস্তফার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, এবিষয়ে স্থায়ী সমাধানে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সাথে আলাপ আলোচনা চলছে। শেষে তিনি পরামর্শ দেন এমপি আশেক উল্লাহ’ রফিকের ( মহেশখালী-কুতুবদিয়া) সাথে যোগাযোগ করার। এমপি আশেকের ফোনে চেষ্টা করা হয় বর্তমান সময়ের বিষয়ে আগ্রহ এবং কর্তব্য জানার মনোভাব কিন্তু ফোন রিসিভ না করায় জানা সম্ভব হয়নি।

২২ সেপ্টেম্বর মহেশখালী উপজেলা চত্বর এলাকায় ঘাটের অনিয়ম নিয়ে বিক্ষোভ-মানববন্ধন তোফায়েলের সহপাঠিদের।

মানববন্ধন নিয়ে বন্ধুদের সংকল্প:

তোফায়েলের লাশের ছবি জুড়ে দিয়ে লিখেন সেকাপ, স্বজনরা স্বান্ত্বনার শেষ অংশ হিসেবে লাশ বুঝে পেয়েছে আজ।কান্নার নিয়ম নেই,কাঁদলেও কিছু হবে না।তাই মরে যেতে সাধ হয়।
ঘাট ব্যবস্থাপনার চরম অনিয়মের বেড়াজাল তৈরী হয়ে আছে বহু যুগ আগে থেকেই,সিন্ডিকেটের মারপ্যাঁছে জিম্মী হাজারো সাধারণ মানুষ,খেসারত দেয় নিরীহ জনগন।
দ্বিতীয় ছবিটি কিছু দূর্দান্ত সাহসী যুবকের ।যাদের দারুণ প্রোজ্জ্বলিত মুষ্ঠিকে ঝড়-বৃষ্টি দমাতে পারে নি,যাদের সংকল্পকে পেছনে টলাতে পারেনি কোনো শক্তি।
নিহত তোফায়েলের পরিবার থেকেও নিশ্চয় তাদেরকে বলে নি কোনো মানববন্ধন করতে,কোনো দাবি-দাওয়া পেশ করতে।তবুও নিজেদের বিবেকের কাছে বন্দী হয়ে এই দামাল ছেলেগুলো বেরিয়ে গেছে অধিকার আদায়ে।একটি সুস্থ মানবিক ন্যায়সম্পন্ন মহেশখালী গড়ে তোলার লক্ষ্যে।তাঁদেরকে স্বশ্রদ্ধ অভিবাদন,কুর্নিশ জানাই।

তোফাইলের জানাযায় এমপি আশেক উল্লাহ রফিক।

জানাযায় এমপি আশেক:

নৌ দুর্ঘটনায় শহিদ মেধাবী ছাত্র তোফায়েল এর নামাজে জানাযায় শরিক হন এমপি আশেক, মহেশখালীর থানার ওসি দিদারুল ফেরদৌস। এমপি বলেন, খুব শিঘ্রই ফেরি সার্ভিস চালু সহ সেতু নির্মাণের চেষ্টা করা হবে।

দুর্ঘটনায় নিহত কলেজ ছাত্র তোফাইল মাহামুদ

যেভাবে দুর্ঘটনা ঘটে:
শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় কক্সবাজার মহেশখালী নৌ পথের বাঁকখালী মোহনায় এই ঘটনা ঘটে। তথ্যমতে, ৬নং জেটি ঘাট থেকে মহেশখালী অভিমুখে গোরকঘাটা সিকদার পাড়ার আব্দু সবুরের মালিকানাধীন ও বশির মাঝির চালিত ৩৮ জনের একটি যাত্রীবাহী গামবোট যাত্রী নিয়ে ৬নং ঘাট ছাড়ে। বাঁকখালীর হারি (স্থানীয় ভাষায়) বয়া সংলগ্ন এলাকায় বালি ভর্তি একটি টেংকার অবস্থান করছিল।স্রোতের গতিতে ৩৮জন যাত্রী নিয়ে আসা ঘামবোটটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে টেংকারের পাশ কাটতেই উত্তর দিক থেকে মাছ ভর্তি একটি ফিশিংবোট যাত্রী বাহী ঘামবোটে সজোরে ধাক্কা দেয়। এসময় ৩জন যাত্রী বাঁকখালী নদীতে পড়ে যায়। বোটের মাঝিসহ অপর যাত্রীরা ২জন যাত্রীকে উদ্ধার করতে পারলেও তোফাইলকে নিখোঁজ হয়ে যায় তোফাইল। তাঁর মৃত দেহ ২২ সেপ্টেম্বর সোনাদিয়া পয়েন্টে থেকে পাওয়া যায়। মহেশখালী উপজেলার ছোট মহেশখালী ইউনিয়নের সিপাহীর পাড়া গ্রামের নাগু মিয়ার পুত্র ও সে চট্টগ্রাম কলেজের অনার্সের ছাত্র।

ভয়েস/জেইউ।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2020
Design & Developed by : JM IT SOLUTION